Showing posts with label Cap Business: Case Study. Show all posts
Showing posts with label Cap Business: Case Study. Show all posts
Sunday, April 26, 2015
Friday, April 24, 2015
অজপাড়াগাঁয়ে টুপি তৈরির প্রথম কোম্পনী !!
অজপাড়াগাঁয়ে টুপি তৈরির প্রথম কোম্পনী !!
সারা বছরই টুপি তৈরি করে আল আলখাইয়্যাত ক্যাপ ইন্ডাস্ট্রি। তবে টুপির চাহিদা বাড়ে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময়। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নিত্যনতুন ডিজাইনসমৃদ্ধ মানসম্মত টুপি তৈরি করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার এই কোম্পানী। তারা বাংলাদেশে টুপি তৈরির পথিকৃৎ। জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মাথাফাটা। ১৯৯১ সাল থেকে এখানে টুপি তৈরি করা শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ কারখানা থেকে টুপি উৎপাদন শুরু হয়। এ কারখানার নাম দেওয়া হয় আলখাইয়্যাত ক্যাপ ইন্ডাস্ট্রি। এ ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আবদুল হান্নান। তিনি '৯৪ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় নুরুন আলা নূর কামিল মাদ্রাসার অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি টুপি ব্যবহার করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাজারে ভালো টুপি না পেয়ে সে সময়ই স্কুল জীবনের বন্ধু দর্জি আবদুর রাজ্জাকের সহায়তায় উন্নতমানের টুপি তৈরির চিন্তা মাথায় আসে তার। '৯৩ সালে এক বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে প্রায় ১০০ টুপি তৈরি করেন। টুপি নিয়ে ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন দোকানে গেলে দোকান থেকে ব্যাপক সাড়া পান। প্রাথম টুপি তৈরি করে যে লভ্যাংশ আসে তা দিয়ে এবং দুই বন্ধুর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ক্রয় করেন টুপি তৈরির মেশিন। '৯৪ সাল থেকে এ কারখানায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টুপি বানানো শুরু করেন।
মরিয়ম ইন্টারন্যাশনাল ইম্পোর্ট-এক্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যক্তির মাধ্যমে তার তৈরি টুপি বিদেশে রফতানি করা হয়।
টুপি তৈরির কারখানায় স্থানীয় মহিলা সহ প্রায় ৪০-৫০ জন কাজ করেন। প্রথম দিকে এ কারখানায় ১২-১৫ হাজার টুপি তৈরি করা হতো। বিভিন্ন মডেল ও ডিজাইনের তৈরিকৃত একটি টুপি তৈরি করতে খরচ পড়ে ২৮-৮০ টাকা পর্যন্ত। কিছু কিছু মডেলের টুপি বাজারমূল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে।
বিদেশের টুপির বাজার বাংলাদেশের দখলে ছিল। কিন্তু বর্তমানে সর্বত্রই চীন এ বাজার দখল করে নিয়েছে। দামে কম, সহজে তৈরি করা সম্ভব এবং চীন সরকার নিজেই এসব শিল্পের বাজার তৈরি করে বলে তারা দ্রুত বাজার দখল করতে পারে। অজপাড়াগাঁয়ে তৈরি টুপি গ্রামীণ অর্থনীতির মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানকার তৈরি টুপি শুধু দেশেই নয়, সৌদি আরব, মিসর, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়া, তাজাকিস্তান, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে। শিল্পনৈপুণ্য, মান ও সৌন্দর্যের কারণে এ টুপির চাহিদা রয়েছে সর্বত্রই।
Source: www.somewhereinblog.net
Related All Links:
নামাজের টুপি তৈরি ব্যবসা
কাপড়ের টুপি তৈরী: প্রস্তুতপ্রণালী, বাজারজাতকরণ, প্রশিক্ষন প্রদানকারী সংস্থা ও কেস স্টাডি
ঈদে টুপি তৈরি করে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আয় করবে বগুড়ার নারীরা
Cap or Hat Buyers: Bangladesh and International
Cap or Hat Buyers: Bangladesh and International
All Subject (Many post in one subject):
Thursday, April 16, 2015
কুড়িগ্রামের টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে : বছরে ৬ কোটি টাকার বাণিজ্য
কুড়িগ্রামের টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে : বছরে ৬ কোটি টাকার বাণিজ্য
হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম,২৫ জুলাই, জে নিউজ :::
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাতিলাপুর গ্রামের মানুষ এখন কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। পাশাপাশি ১০ গ্রামে চলছে টুপি তৈরীর কাজ। আর এ কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে গ্রামের গৃহবধূ থেকে কলেজ-স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী, অশিক্ষিত,স্বল্প শিক্ষিত বেকার কিশোরী-তরুণীরা। এই টুপি রফতানী হচ্ছে ওমান, কুয়েত, সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে। বছরে গড়ে ৬০ হাজার টুপি তৈরী হয় এখানে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিটি টুপির মুল্য গড়ে ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকার টুপি তৈরী হয় এসব গ্রামে। সারা বছরই এই টুপি তৈরীর কাজ চললেও এখন ঈদকে ঘিরে টুপি তৈরীতে ব্যস্ত নারীদের হাত। এভাবেই অনেকেই ভাগ্য বদল করেছেন মঙ্গাপীড়িত এই জনপদে। আর এই স্বাবলম্বিতার গল্পটির স্রষ্টা মোর্শেদা নামের এক সংগ্রামী নারী। টাওয়াল ফ্যাক্টরীর ডিজাইনার হিসেবে টাঙ্গাইলে থাকার সময় হাতে কলমে টুপি তৈরীর কাজ শেখেন। এরপর ১১ বছর আগে নিজ গ্রামে ফিরে প্রশিক্ষণ দিয়ে টুপি তৈরীর কলা কৌশল ছড়িয়ে দেন সবার মাঝে। উলিপুর উপজেলার পাতিলাপুর ও সংলগ্ন আরো ৯টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার নারী এখন টুপি তৈরীর কাজে নিয়োজিত।
উলিপুর উপজেলার শহর থেকে ৫ কি.মি. দুরে অবস্থিত মোর্শেদার পাতিলাপুর গ্রাম। এই গ্রামে সরেজমিন দেখা গেছে, কারও হাতে সাদা আর কারো হাতে রঙ বে-রঙেয়ের কাপড়। সুঁইয়ের ফোঁড়ে ফুটে উঠছে নান্দনিকতা। বিশেষ কায়দায় সেলাই করা কাপড় বা রেশমার উপর নক্শা তৈরী করে টুপি তৈরীর করছে এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারীরা।
এই গ্রামের মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেয়া অদম্য নারী মোর্শেদা বেগমের বিয়ে হয় একই গ্রামের জোবেদ আলীর সাথে। তখন মোর্শেদা দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বিয়ের পর স্বামীর সাথে টাঙ্গাইলের একটি টাওয়াল ফ্যাক্টরীতে কাজ করার জন্য চলে যান। সেটা ১৯৯৫ সালের কথা। সে সময় প্রতিবেশী কমলা বেগমের টুপি তৈরীর কাজ দেখে দেখে রপ্ত করেন কলা-কৌশল। প্রথম টুপি তৈরীর করে মজুরি পান ৩৫০ টাকা। ১১ বছর আগে ফিরে আসেন গ্রামে। মোর্শেদা জানান, সে সময় তার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে বেসরকারি সংস্থার একজন কর্মকর্তা তাকে ৫০টি টুপি তৈরীর অর্ডার দেন। এতে লাভ হয় ১৭ হাজার টাকা। এরপর মোর্শেদার মনে স্বপ্ন দেখা দেয় দিনবদলের। দরিদ্রপীড়িত এই এলাকার বেকার নারীদের কাজের ব্যবস্থা করে মঙ্গা নিরসনের জন্য কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের কাজের ফাঁকে টুপি তৈরী করে যে আয় করা যায় -এই ভাবনা ছড়িয়ে দেন গ্রামের নারীদের কাছে। শুরু করেন নিজ বাড়িতে প্রশিক্ষণ। সাফল্যের গল্প শুনে দলে দলে নারীরা আসতে থাকে তার বাড়িতে। এখন নিজ গ্রামের গন্ডি ছাড়িয়ে নাগরাকুড়া, থেতরাই, কুকুয়াপাড়া, চরুয়াপাড়া, দলদলিয়া, থেতরাই, পান্ডুল, গুনাইগাছ, বাঙালি গ্রামসহ পৌর এলাকার কয়েকটি পাড়ায় চলছে টুপি তৈরীর কাজ।
মোর্শেদা জানান, ফেনীর দু’জন ব্যবসায়ীর কাছে তিনি তৈরী করা টুপি বিক্রি করেন। আর এই টুপি মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি হয়। ওই ব্যবসায়ীরা তার কাছে রেশমা সরবারহ করেন। এরপর তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সঙ্গে নিয়ে স্রেফ সুঁই সুতা দিয়ে তৈরী করেন নানা ধরণের নক্শাখচিত টুপি। প্রতিটি টুপি তৈরীর জন্য পারিশ্রমিক পান ৩০০-৩৫০ টাকা। এতে সুই সুতার খরচ ৩০-৪০ টাকা। প্রতি টুপিতে তিনি কমিশন পান ৩০-৪০ টাকা। প্রতি গ্রামে সুপারভাইজার নিয়োগ করে কাজের তদারকির পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টি উপক্ষো করে পায়ে হেঁটে ও রিক্্রায় গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে তিনি টুপির তৈরীর কাজ দেখভাল করেন। এভাবে মাসে গড়ে ৫ হাজার টুপি সরবারহ করেন। তবে ধান কাটার মৌসুমে গ্রামের নারীরা ব্যস্ত থাকে বলে উৎপাদন কমে যায়। হাতে অন্য কাজ না থাকলে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে টুপি তৈরীর কাজে। মিয়াপাড়ার সীমা (২২), হোকডাঙার রোকসানা (১৯), খাদিজা (২০) জানান, তারা মোর্শেদা বেগমের কাছে ট্রেনিং নিয়ে দু’বছর ধরে টুপি তৈরীর কাজ করছেন। বেকার এই যুবতিরা নিজেদের সংসারের কাজের ফাঁকে টুপি তৈরীর করে মাসে ৬ শত থেকে ৭ শত টাকা আয় করেন। গৃহবধূরা আয় করেন দেড় থেকে দু’হাজার টাকা। থেতরাই হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী শাপলা বলেন, ‘স্কুল থেকে এসে কিছুক্ষণ এই কাজ করি। নিজের উপার্জন দিয়ে খাতা কলম কিনি। গরীব বাবার কোন বোঝা হয়না তাতে’। উলিপুর মহিলা কলেজে ডিগ্রিতে পড়েন আফরোজা। পড়াশুনার ক্ষতি না করে ১৫-২০ দিনে একটি টুপি তৈরী করে আয় করছেন। এই এলাকার আনোয়ারা (৫০), রুপালীা (৫৫), সুরমা (৪০) বলেন, ‘মোর্শেদা আপা আমাদের নতুন জীবন দিয়েছেন। এখন শুধু স্বামীর উপার্জনের উপর নির্ভর করতে হয়না। স্বামীর সংসারে এখন অনেক সাহায্য করতে পারি। অবসরে টুপি তৈরীর কাজ করি বলে নিজের সংসারের কোন কাজের ক্ষতি হয়না’।
দরিদ্র মোর্শেদা টুপি তৈরী করে স্বাবলম্বি হয়েছেন। ৪ রুম বিশিষ্ট আধাপাকা বাড়ি করেছেন। জমি কিনেছেন ২ লাখ টাকার। দু’মেয়েকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। এখন মোর্শেদার স্বপ্ন এলাকার দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বি করা। এজন্য ৬-৭ লাখ টাকার পুঁিজ পেলে টুপি তৈরীর প্রধান উপাদান রেশমা তৈরীর কারখানা দিবেন। আর এটা সম্ভব হলে এই এলাকার ১৪-১৫ হাজার নারীর কাজের ব্যবস্থা তিনি করতে পারবেন।
Source: http://bangla.jnewsbd.com
হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম,২৫ জুলাই, জে নিউজ :::
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাতিলাপুর গ্রামের মানুষ এখন কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। পাশাপাশি ১০ গ্রামে চলছে টুপি তৈরীর কাজ। আর এ কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে গ্রামের গৃহবধূ থেকে কলেজ-স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী, অশিক্ষিত,স্বল্প শিক্ষিত বেকার কিশোরী-তরুণীরা। এই টুপি রফতানী হচ্ছে ওমান, কুয়েত, সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে। বছরে গড়ে ৬০ হাজার টুপি তৈরী হয় এখানে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিটি টুপির মুল্য গড়ে ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকার টুপি তৈরী হয় এসব গ্রামে। সারা বছরই এই টুপি তৈরীর কাজ চললেও এখন ঈদকে ঘিরে টুপি তৈরীতে ব্যস্ত নারীদের হাত। এভাবেই অনেকেই ভাগ্য বদল করেছেন মঙ্গাপীড়িত এই জনপদে। আর এই স্বাবলম্বিতার গল্পটির স্রষ্টা মোর্শেদা নামের এক সংগ্রামী নারী। টাওয়াল ফ্যাক্টরীর ডিজাইনার হিসেবে টাঙ্গাইলে থাকার সময় হাতে কলমে টুপি তৈরীর কাজ শেখেন। এরপর ১১ বছর আগে নিজ গ্রামে ফিরে প্রশিক্ষণ দিয়ে টুপি তৈরীর কলা কৌশল ছড়িয়ে দেন সবার মাঝে। উলিপুর উপজেলার পাতিলাপুর ও সংলগ্ন আরো ৯টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার নারী এখন টুপি তৈরীর কাজে নিয়োজিত।
উলিপুর উপজেলার শহর থেকে ৫ কি.মি. দুরে অবস্থিত মোর্শেদার পাতিলাপুর গ্রাম। এই গ্রামে সরেজমিন দেখা গেছে, কারও হাতে সাদা আর কারো হাতে রঙ বে-রঙেয়ের কাপড়। সুঁইয়ের ফোঁড়ে ফুটে উঠছে নান্দনিকতা। বিশেষ কায়দায় সেলাই করা কাপড় বা রেশমার উপর নক্শা তৈরী করে টুপি তৈরীর করছে এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারীরা।
এই গ্রামের মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নেয়া অদম্য নারী মোর্শেদা বেগমের বিয়ে হয় একই গ্রামের জোবেদ আলীর সাথে। তখন মোর্শেদা দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বিয়ের পর স্বামীর সাথে টাঙ্গাইলের একটি টাওয়াল ফ্যাক্টরীতে কাজ করার জন্য চলে যান। সেটা ১৯৯৫ সালের কথা। সে সময় প্রতিবেশী কমলা বেগমের টুপি তৈরীর কাজ দেখে দেখে রপ্ত করেন কলা-কৌশল। প্রথম টুপি তৈরীর করে মজুরি পান ৩৫০ টাকা। ১১ বছর আগে ফিরে আসেন গ্রামে। মোর্শেদা জানান, সে সময় তার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে বেসরকারি সংস্থার একজন কর্মকর্তা তাকে ৫০টি টুপি তৈরীর অর্ডার দেন। এতে লাভ হয় ১৭ হাজার টাকা। এরপর মোর্শেদার মনে স্বপ্ন দেখা দেয় দিনবদলের। দরিদ্রপীড়িত এই এলাকার বেকার নারীদের কাজের ব্যবস্থা করে মঙ্গা নিরসনের জন্য কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের কাজের ফাঁকে টুপি তৈরী করে যে আয় করা যায় -এই ভাবনা ছড়িয়ে দেন গ্রামের নারীদের কাছে। শুরু করেন নিজ বাড়িতে প্রশিক্ষণ। সাফল্যের গল্প শুনে দলে দলে নারীরা আসতে থাকে তার বাড়িতে। এখন নিজ গ্রামের গন্ডি ছাড়িয়ে নাগরাকুড়া, থেতরাই, কুকুয়াপাড়া, চরুয়াপাড়া, দলদলিয়া, থেতরাই, পান্ডুল, গুনাইগাছ, বাঙালি গ্রামসহ পৌর এলাকার কয়েকটি পাড়ায় চলছে টুপি তৈরীর কাজ।
মোর্শেদা জানান, ফেনীর দু’জন ব্যবসায়ীর কাছে তিনি তৈরী করা টুপি বিক্রি করেন। আর এই টুপি মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি হয়। ওই ব্যবসায়ীরা তার কাছে রেশমা সরবারহ করেন। এরপর তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সঙ্গে নিয়ে স্রেফ সুঁই সুতা দিয়ে তৈরী করেন নানা ধরণের নক্শাখচিত টুপি। প্রতিটি টুপি তৈরীর জন্য পারিশ্রমিক পান ৩০০-৩৫০ টাকা। এতে সুই সুতার খরচ ৩০-৪০ টাকা। প্রতি টুপিতে তিনি কমিশন পান ৩০-৪০ টাকা। প্রতি গ্রামে সুপারভাইজার নিয়োগ করে কাজের তদারকির পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টি উপক্ষো করে পায়ে হেঁটে ও রিক্্রায় গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে তিনি টুপির তৈরীর কাজ দেখভাল করেন। এভাবে মাসে গড়ে ৫ হাজার টুপি সরবারহ করেন। তবে ধান কাটার মৌসুমে গ্রামের নারীরা ব্যস্ত থাকে বলে উৎপাদন কমে যায়। হাতে অন্য কাজ না থাকলে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে টুপি তৈরীর কাজে। মিয়াপাড়ার সীমা (২২), হোকডাঙার রোকসানা (১৯), খাদিজা (২০) জানান, তারা মোর্শেদা বেগমের কাছে ট্রেনিং নিয়ে দু’বছর ধরে টুপি তৈরীর কাজ করছেন। বেকার এই যুবতিরা নিজেদের সংসারের কাজের ফাঁকে টুপি তৈরীর করে মাসে ৬ শত থেকে ৭ শত টাকা আয় করেন। গৃহবধূরা আয় করেন দেড় থেকে দু’হাজার টাকা। থেতরাই হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী শাপলা বলেন, ‘স্কুল থেকে এসে কিছুক্ষণ এই কাজ করি। নিজের উপার্জন দিয়ে খাতা কলম কিনি। গরীব বাবার কোন বোঝা হয়না তাতে’। উলিপুর মহিলা কলেজে ডিগ্রিতে পড়েন আফরোজা। পড়াশুনার ক্ষতি না করে ১৫-২০ দিনে একটি টুপি তৈরী করে আয় করছেন। এই এলাকার আনোয়ারা (৫০), রুপালীা (৫৫), সুরমা (৪০) বলেন, ‘মোর্শেদা আপা আমাদের নতুন জীবন দিয়েছেন। এখন শুধু স্বামীর উপার্জনের উপর নির্ভর করতে হয়না। স্বামীর সংসারে এখন অনেক সাহায্য করতে পারি। অবসরে টুপি তৈরীর কাজ করি বলে নিজের সংসারের কোন কাজের ক্ষতি হয়না’।
দরিদ্র মোর্শেদা টুপি তৈরী করে স্বাবলম্বি হয়েছেন। ৪ রুম বিশিষ্ট আধাপাকা বাড়ি করেছেন। জমি কিনেছেন ২ লাখ টাকার। দু’মেয়েকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। এখন মোর্শেদার স্বপ্ন এলাকার দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বি করা। এজন্য ৬-৭ লাখ টাকার পুঁিজ পেলে টুপি তৈরীর প্রধান উপাদান রেশমা তৈরীর কারখানা দিবেন। আর এটা সম্ভব হলে এই এলাকার ১৪-১৫ হাজার নারীর কাজের ব্যবস্থা তিনি করতে পারবেন।
Source: http://bangla.jnewsbd.com
Saturday, March 14, 2015
টুপি বানিয়ে দেশেইসফল
টুপি বানিয়ে দেশেই সফল
- মোহাম্মদ আলম, টঙ্গী (গাজীপুর)
ভাগ্যোন্নয়নে ১৯৯৬ সালে দুবাই যান। দুই বছর কাজ করেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। চলে আসেন দেশে। পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত কাপড় বা ঝুট দিয়ে তৈরি করেন টুপি। প্রথমে ফেরি করে বিক্রি করলেও এখন সব টুপিই রপ্তানি হয় ভারতে। তাঁর দেখাদেখি কমপক্ষে আরও ২০ জন শুরু করেছেন টুপি তৈরির কাজ।
সফল এই ব্যবসায়ীর নাম মো. রফিক শেখ। বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায়। সেখানে আড়াই কাঠা জমির ওপর দোতলা বাড়ি করেছেন। ঢাকায় কিনেছেন চার কাঠা জমি। একমাত্র ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। সবই করেছেন টুপি তৈরির কারখানার আয় থেকে। বর্তমানে ১২ জন কর্মচারী সার্বক্ষণিক কাজ করছেন তাঁর কারখানায়।
যেভাবে শুরু: ১৯৯৮ সালে দুবাই থেকে দেশে ফেরেন রফিক। স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন এরশাদনগরের ৪ নম্বর বস্তিতে। শ্যালক পিন্টু ঝুট থেকে টুপি বানিয়ে ব্যবসা করার পরামর্শ দেন। দুই হাজার টাকার একটি সেলাই মেশিন ও পোশাক কারখানার পাঁচ হাজার টাকার পরিত্যক্ত ঝুট নিয়ে শুরু করেন টুপি বানানোর কাজ। নাম দেন শাওন রিপা ক্যাপ হাউস। ভাড়া দুটি কক্ষের একটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। অন্যটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টুপি বানানোর কাজ করতেন।
টুপির বাজারজাত: প্রথম দিকে টুপি বানিয়ে বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করতেন রফিক। তবে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। রফিক জানান, বছরের ১১ মাসে যে পরিমাণ টুপি বিক্রি হয়, ইজতেমার সময় তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এ জন্য ইজতেমার তিন মাস আগে থেকেই টুপি বানিয়ে মজুত করে রাখতেন। বর্তমানে টুপি বিক্রি নিয়ে আর ভাবতে হয় না। টুপিগুলো ভারতে রপ্তানি করা হয়।
প্রতিটি টুপি তৈরিতে কমপক্ষে ২৫ টাকা খরচ হয়। পাইকারি দরে তা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। কারখানার ১২ জন শ্রমিক প্রতি মাসে ৭২ হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়। বর্তমানে প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে কারখানা থেকে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় হয় রফিকের।
টুপির প্রকারভেদ ও তৈরির কাঁচামাল: মূলত ভারতের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের টুপি তৈরি করেন রফিক। এর মধ্যে রয়েছে নাইকি, রিবক, ফিলা, পোলো, প্লেন ক্যাপ ও সান ক্যাপ।
এসব টুপি তৈরিতে টঙ্গী ও গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত ওভেন (জিনসের কাপড়) ব্যবহূত হয়। তা ছাড়া গ্যাবার্ডিন কাপড়, কটন (বখরম) কাপড়, বেলকো (টুপির পেছনের বেল্ট), সুতা প্রভৃতি কাঁচামাল চকবাজার থেকে সংগ্রহ করেন রফিক।
গড়ে উঠেছে আরও কারখানা: রফিকের সাফল্যে উৎসাহী হয়ে এরই মধ্যে টঙ্গীর এরশাদনগরে গড়ে উঠেছে আরও ২০-২৫টি কারখানা। প্রতিটি কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে কমপক্ষে পাঁচজন করে শ্রমিকের। সব মিলিয়ে কয়েক শ পরিবার উপকৃত হচ্ছে রফিকের দেখানো পথে। সাত-আটজন ব্যবসায়ী ভারত ও চীনে টুপি রপ্তানি করেন। বাকিরা দেশের বাজারে সরবরাহ করেন।
জননী ক্যাপ হাউসের স্বত্বাধিকারী আবদুল লতিফ জানান, রফিককে দেখে উৎসাহিত হয়ে তাঁর এক বছর পর থেকে তিনি টুপি তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ভারত ও চীনে টুপি রপ্তানি করেন। রফিকের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে অনেকেই তাঁর মতো ব্যবসা করছেন। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে বুদ্ধি-পরামর্শ নিয়েছেন।
Source: http://www.prothom-alo.com
All Subject (Many post in one subject):
Thursday, March 12, 2015
জমজমাট টুপির বাজারসারাদেশের জন্য দেশ বিদেশের নানা রকম নকশা ও বুননের টুপির চাহিদার জোগান দিয়ে থাকেন চকবাজারের টুপি ব্যবসায়ীরা। তারা এখন দারুণ ব্যস্ত। রমজান মাস শুরুর দিন থেকেই সারাদেশের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে টুপি কিনে নিচ্ছেনহাসান শান্তনু 
ঈদে নতুন জামা-জুতার সঙ্গে টুপিরও রয়েছে আলাদা চাহিদা। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় দেশীয় হাতে তৈরি নকশার টুপির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয়-পাকিস্তানি রং-বেরঙের টুপি _যাযাদিঢাকার চকবাজারে টুপির ব্যবসার ইতিহাস তিন কালের পুরনো। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের শাসন চলাকালে কয়েকজন বাঙালি ছিলেন টুপির কারিগর। নিজেরা টুপি বানিয়ে সেখানে বিক্রি করতেন। তখন বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে টুপি পরার রেওয়াজ চালু ছিল বেশ রকম। পাকিস্তান আমলেও চকবাজারের টুপির ব্যবসার ধরন প্রায় একই রকম থাকে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে সময় গড়ানোর সঙ্গে আরো বিস্তৃত হয় টুপির বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হওয়া টুপি ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র হয় চকবাজার। এভাবেই চকবাজার হয়ে ওঠে টুপির পাইকারি বিক্রির দেশের অন্যতম বড় বাজার। অন্যান্য বারের মতো এবারকার ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমজমাট হয়ে উঠেছে সেখানকার টুপি ব্যবসা।
ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহা_ মুসলমানদের অনাবিল আনন্দের ধর্মীয় এই দুই উৎসব উদযাপন হয় নামাজের মধ্য দিয়ে। পাঞ্জাবি বা অন্য যে কোনো পোশাকের সঙ্গে ঈদের দিন সব বয়সী পুরুষের মাথায় ঝকঝকে ও বাহারি নকশার টুপি থাকা চাই। ধর্মীয় রীতিতেই টুপি নামাজের বিশেষ অনুষঙ্গ। আর সারাদেশের মানুষের জন্য দেশ-বিদেশের নানা রকম নকশা ও বুননের টুপির চাহিদার জোগান দিয়ে থাকেন চকবাজারের টুপি ব্যবসায়ীরা। এখন তাই দারুণ ব্যস্ত ওই টুপির বাজার। রমজান মাস শুরুর দিন থেকেই সারাদেশের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে টুপি কিনে নিচ্ছেন। তারা মনে করেন, রমজানের শেষদিকে খুচরা বাজারে এসব টুপি বিক্রি হবে।
চকবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী দৈনিক যায়যায়দিনকে জানান, এখন প্রতিদিন কত টাকার টুপির ব্যবসা হচ্ছে, এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে একজন পাইকারি বিক্রেতা প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ টাকার টুপি সরবরাহ করছেন। এই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকার টুপি চকবাজার থেকে পাইকারি ক্রেতাদের হাতে চলে যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, কাঁটাবন মসজিদ এবং কাকরাইল মসজিদ এলাকার কয়েকজন টুপি ব্যবসায়ীও সারাদেশে পাইকারি টুপি বিক্রি করছেন। তারা প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ টাকার টুপি পাইকারি বিক্রি করছেন। সব মিলিয়ে রমজানে ঢাকা থেকে দিনে গড়ে ৬০ লাখ টাকার টুপি সারাদেশে যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা। সারাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, নিউ মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা এবং রাজধানী সুপার মার্কেটসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বিপণি বিতানের দোকান মালিকরাও চকবাজার থেকে পাইকারি টুপি কিনছেন। ঈদের ৫-৬ দিন আগে পর্যন্ত পাইকারি বাজারে টুপির ব্যবসা এভাবে জমজমাট থাকবে বলে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান।
ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, দেশে বিভিন্ন মানের টুপি পাইকারি বিক্রির বড় বাজার হচ্ছে পুরান ঢাকার চকবাজার। সারা বছর বিক্রি চললেও টুপির ব্যবসা অনেকটা মৌসুমি এবং ঈদকেন্দ্রিক। ঈদের আগেই ক্রেতার বিরাট চাহিদা থাকে টুপির প্রতি। রমজানের আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা তাই পুরোদমে ব্যবসার প্রস্তুতি নেন। বছরের অন্যান্য সময় টুপি বিক্রি কম হলেও রমজানে যে পরিমাণ বিক্রি হয়, তাতে পুরো পুঁজি উঠে আসে। চকবাজারে টুপির পাইকারি দোকান আছে ৩২টি। এ সময় নিয়মিত দোকানগুলোর পাশাপাশি সেখানে বসে ২০-২৫টির মতো মৌসুমি দোকান। অন্যান্য বছরের মতো এবারো এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কম সময়ে লাভ বেশি বলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা টুপি বিক্রি করতে রমজানে নেমে পড়েন। আবার ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নিজস্ব ব্যবসা ছেড়ে রমজানে বেশি লাভের আশায় শুধু টুপির ব্যবসা শুরু করেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চকবাজারের টুপির বাজারে পাইকারি ক্রেতার প্রচ- ভিড়। খুচরা ক্রেতাদের উপস্থিতি নেই_ এমনটাও বলা যাবে না। খুচরা ক্রেতাদেরও নিরাশ করেন না বিক্রেতারা। দুই রকমের ক্রেতার পদচারণা আর বিক্রেতাদের হাঁকডাকের ভারে মুখরিত বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এবং প্রত্যন্ত এলাকার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা টুপি কেনার জন্য সেখানে আসেন। নূরানী, আল কবির এবং আল ফারুক টুপির পাইকারি বিক্রেতা মুসলেহ উদ্দিন জানান, রমজানের শুরু থেকে সারাদেশেই খুচরা বিক্রেতাদের টুপির অর্ডার বাড়ছে।
টুপি ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা জানান, দেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খাত টুপি শিল্প। সরকার এতে নজর দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আরো বেশি টুপি রপ্তানি সম্ভব হবে।
চকবাজারের সৌদিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বদির উদ্দিন ইরানের মতে, আগে টুপির ব্যবসা আরো ভালো ছিল। এখন মেশিনে কাপড়ের টুপি তৈরি হওয়ায় সুতার টুপির কদর কমে গেছে। তবে যারা চেনেন, তারা হাতের টুপিকেই বেশি মূল্যায়ন করেন। হাতের টুপির বেশি ক্রেতা শৌখিন মানুষ।
তিনি জানান, চকবাজারে বিক্রি হওয়া টুপিগুলো তৈরি হয় ঢাকার জিঞ্জিরাসহ আরো কয়েকটি এলাকায়, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মার্কেট, নরসিংদীর বাবুরহাট এবং বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
আলিফ ক্যাপ ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রেতা আসাদ রহমান জানান, তাদের তৈরি টুপি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত হয়। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও রপ্তানি হচ্ছে। অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে টুপি রপ্তানিতে আগে বিকল্প নগদ সহায়তা দেয়া হতো। বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার টুপির ব্যবসা হয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার টুপি।
জানা গেছে, টুপি ব্যবসায়ীদের আলাদা কোনো সমিতি নেই। আগে একটা সমিতি থাকলেও তা এখন বিলুপ্ত। তবে সমিতি গঠনের উদ্যোগ আছে। ব্যবসায়ীরা এখন চকবাজার মনিহার বণিক সমিতির আওতায় আছেন।
অন্যদিকে, পাইকারি ও খুচরা বাজারে টুপির যেমন নামের ভিন্নতা আছে, তেমনি আছে দামের পার্থক্য। জালি, গোল, আড়ি, এসি, সাতে এবং চায়নাসহ বিভিন্ন ধরনের টুপি চকবাজারে পাওয়া যায়। শহিদ, আল ফারুক, লেইস, পুশিকাটা পুঁতি এবং টরে টুপিও পাওয়া যাচ্ছে। আছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, চীন ও ইরাকের টুপি। দেশি টুপির দাম ৩৬ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। মাঝারি মানের টুপি ৪০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আর বিদেশি টুপির দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
Source: www.jjdin.com

ঈদে নতুন জামা-জুতার সঙ্গে টুপিরও রয়েছে আলাদা চাহিদা। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় দেশীয় হাতে তৈরি নকশার টুপির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয়-পাকিস্তানি রং-বেরঙের টুপি _যাযাদিঢাকার চকবাজারে টুপির ব্যবসার ইতিহাস তিন কালের পুরনো। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের শাসন চলাকালে কয়েকজন বাঙালি ছিলেন টুপির কারিগর। নিজেরা টুপি বানিয়ে সেখানে বিক্রি করতেন। তখন বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে টুপি পরার রেওয়াজ চালু ছিল বেশ রকম। পাকিস্তান আমলেও চকবাজারের টুপির ব্যবসার ধরন প্রায় একই রকম থাকে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে সময় গড়ানোর সঙ্গে আরো বিস্তৃত হয় টুপির বাজার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হওয়া টুপি ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র হয় চকবাজার। এভাবেই চকবাজার হয়ে ওঠে টুপির পাইকারি বিক্রির দেশের অন্যতম বড় বাজার। অন্যান্য বারের মতো এবারকার ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমজমাট হয়ে উঠেছে সেখানকার টুপি ব্যবসা।ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহা_ মুসলমানদের অনাবিল আনন্দের ধর্মীয় এই দুই উৎসব উদযাপন হয় নামাজের মধ্য দিয়ে। পাঞ্জাবি বা অন্য যে কোনো পোশাকের সঙ্গে ঈদের দিন সব বয়সী পুরুষের মাথায় ঝকঝকে ও বাহারি নকশার টুপি থাকা চাই। ধর্মীয় রীতিতেই টুপি নামাজের বিশেষ অনুষঙ্গ। আর সারাদেশের মানুষের জন্য দেশ-বিদেশের নানা রকম নকশা ও বুননের টুপির চাহিদার জোগান দিয়ে থাকেন চকবাজারের টুপি ব্যবসায়ীরা। এখন তাই দারুণ ব্যস্ত ওই টুপির বাজার। রমজান মাস শুরুর দিন থেকেই সারাদেশের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে টুপি কিনে নিচ্ছেন। তারা মনে করেন, রমজানের শেষদিকে খুচরা বাজারে এসব টুপি বিক্রি হবে।
চকবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী দৈনিক যায়যায়দিনকে জানান, এখন প্রতিদিন কত টাকার টুপির ব্যবসা হচ্ছে, এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে একজন পাইকারি বিক্রেতা প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ টাকার টুপি সরবরাহ করছেন। এই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকার টুপি চকবাজার থেকে পাইকারি ক্রেতাদের হাতে চলে যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, কাঁটাবন মসজিদ এবং কাকরাইল মসজিদ এলাকার কয়েকজন টুপি ব্যবসায়ীও সারাদেশে পাইকারি টুপি বিক্রি করছেন। তারা প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ টাকার টুপি পাইকারি বিক্রি করছেন। সব মিলিয়ে রমজানে ঢাকা থেকে দিনে গড়ে ৬০ লাখ টাকার টুপি সারাদেশে যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা। সারাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, নিউ মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা এবং রাজধানী সুপার মার্কেটসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বিপণি বিতানের দোকান মালিকরাও চকবাজার থেকে পাইকারি টুপি কিনছেন। ঈদের ৫-৬ দিন আগে পর্যন্ত পাইকারি বাজারে টুপির ব্যবসা এভাবে জমজমাট থাকবে বলে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান।
ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, দেশে বিভিন্ন মানের টুপি পাইকারি বিক্রির বড় বাজার হচ্ছে পুরান ঢাকার চকবাজার। সারা বছর বিক্রি চললেও টুপির ব্যবসা অনেকটা মৌসুমি এবং ঈদকেন্দ্রিক। ঈদের আগেই ক্রেতার বিরাট চাহিদা থাকে টুপির প্রতি। রমজানের আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা তাই পুরোদমে ব্যবসার প্রস্তুতি নেন। বছরের অন্যান্য সময় টুপি বিক্রি কম হলেও রমজানে যে পরিমাণ বিক্রি হয়, তাতে পুরো পুঁজি উঠে আসে। চকবাজারে টুপির পাইকারি দোকান আছে ৩২টি। এ সময় নিয়মিত দোকানগুলোর পাশাপাশি সেখানে বসে ২০-২৫টির মতো মৌসুমি দোকান। অন্যান্য বছরের মতো এবারো এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কম সময়ে লাভ বেশি বলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা টুপি বিক্রি করতে রমজানে নেমে পড়েন। আবার ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নিজস্ব ব্যবসা ছেড়ে রমজানে বেশি লাভের আশায় শুধু টুপির ব্যবসা শুরু করেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চকবাজারের টুপির বাজারে পাইকারি ক্রেতার প্রচ- ভিড়। খুচরা ক্রেতাদের উপস্থিতি নেই_ এমনটাও বলা যাবে না। খুচরা ক্রেতাদেরও নিরাশ করেন না বিক্রেতারা। দুই রকমের ক্রেতার পদচারণা আর বিক্রেতাদের হাঁকডাকের ভারে মুখরিত বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এবং প্রত্যন্ত এলাকার পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা টুপি কেনার জন্য সেখানে আসেন। নূরানী, আল কবির এবং আল ফারুক টুপির পাইকারি বিক্রেতা মুসলেহ উদ্দিন জানান, রমজানের শুরু থেকে সারাদেশেই খুচরা বিক্রেতাদের টুপির অর্ডার বাড়ছে।
টুপি ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা জানান, দেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি খাত টুপি শিল্প। সরকার এতে নজর দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আরো বেশি টুপি রপ্তানি সম্ভব হবে।
চকবাজারের সৌদিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বদির উদ্দিন ইরানের মতে, আগে টুপির ব্যবসা আরো ভালো ছিল। এখন মেশিনে কাপড়ের টুপি তৈরি হওয়ায় সুতার টুপির কদর কমে গেছে। তবে যারা চেনেন, তারা হাতের টুপিকেই বেশি মূল্যায়ন করেন। হাতের টুপির বেশি ক্রেতা শৌখিন মানুষ।
তিনি জানান, চকবাজারে বিক্রি হওয়া টুপিগুলো তৈরি হয় ঢাকার জিঞ্জিরাসহ আরো কয়েকটি এলাকায়, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মার্কেট, নরসিংদীর বাবুরহাট এবং বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
আলিফ ক্যাপ ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রেতা আসাদ রহমান জানান, তাদের তৈরি টুপি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত হয়। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও রপ্তানি হচ্ছে। অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে টুপি রপ্তানিতে আগে বিকল্প নগদ সহায়তা দেয়া হতো। বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার টুপির ব্যবসা হয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার টুপি।
জানা গেছে, টুপি ব্যবসায়ীদের আলাদা কোনো সমিতি নেই। আগে একটা সমিতি থাকলেও তা এখন বিলুপ্ত। তবে সমিতি গঠনের উদ্যোগ আছে। ব্যবসায়ীরা এখন চকবাজার মনিহার বণিক সমিতির আওতায় আছেন।
অন্যদিকে, পাইকারি ও খুচরা বাজারে টুপির যেমন নামের ভিন্নতা আছে, তেমনি আছে দামের পার্থক্য। জালি, গোল, আড়ি, এসি, সাতে এবং চায়নাসহ বিভিন্ন ধরনের টুপি চকবাজারে পাওয়া যায়। শহিদ, আল ফারুক, লেইস, পুশিকাটা পুঁতি এবং টরে টুপিও পাওয়া যাচ্ছে। আছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, চীন ও ইরাকের টুপি। দেশি টুপির দাম ৩৬ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। মাঝারি মানের টুপি ৪০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আর বিদেশি টুপির দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
Source: www.jjdin.com
Tuesday, March 10, 2015
ঈদে টুপি তৈরি করে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আয় করবে বগুড়ার নারীরা
ঈদ সামনে রেখে বগুড়া জেলায় এবার সাড়ে ৫ কোটি টাকার টুপি তৈরি করা হচ্ছে। গ্রামীণ মেয়েদের এখন টুপি তৈরি করতে ক্রুচ কাঁটা হাতে আর সুতার গুটি হাতে নিয়ে ব্যস্ত দিন কাটছে। রমজান সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয় তাদের এ প্রস্তুতি। এ টুপি দেশের চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হবে বিদেশে। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারগুলো দখল করে নিয়েছে বগুড়ার হাতে তৈরি টুপি। যতই দিন যাচ্ছে ততই এ টুপির কদর বাড়ছে।
বগুড়া জেলা টুপি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জুয়েল আকন্দ জানান, বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর, ধুনট, শিবগঞ্জ ও কাহালু এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলার ৪০০ গ্রামের কমপক্ষে ৫০ হাজার বিভিন্ন বয়সের নারী কারিগর রয়েছেন। তাদের সবার হাতে এখন ক্রুচ কাঁটা। এসব এলাকায় নারীরা দু’হাতের আঙুলের সঙ্গে ক্রুচ কাঁটা আর সুতা দিয়ে নানা ধরনের টুপি বুনছেন। প্রতিদিন এসব এলাকায় কমপক্ষে দেড় লাখ টুপি তৈরি করেন তারা। এ মাসে তাদের টার্গেট ৪৫ লাখ টুপি বুনোবেন। তিনি আরও জানান, বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী দু’একটি জেলার চাহিদা পূরণের পর প্রায় ৩ কোটি টাকার টুপি রাজধানী ঢাকায় বিক্রি করা হবে।
অন্য এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, এসব গ্রামীণ নারী ছাড়াও জেলার ২০টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) রয়েছে যাদের প্রায় দুই হাজার নারী কারিগর প্রতিদিন ৬ হাজার টুপি বুনেন। পাশাপাশি তারা নানা ধরনের হস্তশিল্প সামগ্রীও তৈরি করেন। তাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে এ মাসে তারা রাজধানী ঢাকাসহ দেশে ও বিদেশের জন্য প্রায় দুই লাখ টুপি তৈরি করবেন। সূত্রটি আরও জানায়, কমপক্ষে ১০০ জন খুচরা ক্রেতা রয়েছেন যারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গ্রামীণ নারীদের সুনিপুণ হাতে সুতা দিয়ে বুনোনো নানা ধরনের টুপিগুলো কেনেন। বহু খুচরা ক্রেতার অর্থের অভাবে নারীদের বুনোনো টুপিগুলো কিনতে হিমশিম খেতে হয়।
বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর স্ত্রী হেলেনা বেগম, সামছুলের স্ত্রী লাভলী বেগম, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিউলী বেগম জানান, মাত্র ২০ বছর আগে ৯০-এর দশকে তারা ক্রুচ কাঁটা আর সুতা দিয়ে টুপি বুনোনো শুরু করেন। তারা বলেন, জেলার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চকধলি গ্রামের আজাহারের স্ত্রী ফরিদা বেগম, নুর আলীর কলেজপড়ুয়া মেয়ে নুরজাহান খাতুন ধুনট উপজেলার বিম্বহরিগাছা গ্রামের সফুরা বেগম, শান্তনা খাতুনসহ অনেকের কাছ থেকে কাজ শিখে এসে টুপির কাজ শুরু করেন। তাদের দেখে এলাকার বিভিন্ন বয়সের বহু নারী টুপি বুনোনোর কাজে ঝুঁকে পড়েন। এভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ নারীদের মাঝে এ কাজ করার প্রবণতা বেড়ে যায়। বগুড়া সদর উপজেলার বামনপাড়া, শেরপুর উপজেলার বিম্বহরিগাছা, বাটকাবাড়ি, বুদ্ধগাঁথি, বাটিকাপাড়া, মথুরাপাড়া, চকধলি, জয়লা-জুয়ান, জয়লা-আলাদি, কল্যাণী, চককলোনি, গোয়াগাছি, ধুনট উপজেলার বোয়ালগাছা, বথুয়াবাড়ি, চৌকিবাড়ি, ফড়িংহাটা, কুরহাটা, বিশ্বহরিগাছা, রুদ্রবাড়িয়া, চান্দার, ভুবনগাঁথি, পাঁচথুপি, পেচিবাড়ি, চালাপাড়া, থেওকান্দী, চিথুলিয়া, মরিচতলা, মানিকপটল এলাকায় গেলেই দেখা যায় টুপি বুনোনোর কারিগরদের।
ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়া শহরের বড় মসজিদ এলাকায় এসব টুপি পাইকারি কেনা হয়। গ্রামে গ্রামে গিয়ে খুচরা ক্রেতারা এসব টুপি কিনে শহরের এ দোকানগুলোতে বিক্রি করেন। পরে এসব টুপি শহরের ক্রেতারা রাজধানী ঢাকায় পাঠান। পরে ঢাকার পাইকারি ক্রেতারা এদেশ থেকে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোতে রফতানি করেন।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কুলসুম বেগম, সফুরা বিবি, রহিমা বিবি, শান্তনা খাতুন, ফরিদা ইয়াসমিন, নারগিছ আকতার, দুলালী বেগমসহ বহু নারী টুপি নির্মাতা জানান, টুপি বুনোনোর কাজ তাদের সবাইকে অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা স্বাবলম্বী করেছে। অবসর সময়গুলো নষ্ট না করে তারা টুপি বুনোনোর কাজে ব্যয় করেন। ধুনট ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত জোবেদা খাতুন, মরিয়ম বেগম, শিল্পী, চায়না খাতুন জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা টুপি বুনোনোর কাজ করেন। এতে যে অর্থ উপার্জন হয় তা দিয়ে তারা কাপড়-চোপড়, কসমেটিক্স, বই, খাতা-কলম ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন। এজন্য বাবা ও মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না বলে তারা জানান। মহাস্থান হাইস্কুল ও মাদরাসাপড়ুয়া মহাস্থানগড় গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিন, সুলতানা খাতুন, আকলিমা খাতুন, নুও বানু, সালেহা খাতুন জানায়, পড়া লেখার পাশাপাশি তারা টুপি বুনোনোর কাজ করে। এতে তাদের লেখাপাড়ার তো ক্ষতি হয়ই না বরং লেখাপড়া করতে গিয়ে বিভিন্ন উপকরণ কেনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ কাজ বহু গরিব শ্রেণীর নারী শিক্ষার্থীদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। অনেক খুচরা ক্রেতারা গ্রামীণ মেয়েদের বিনা খরচায় সুতা সরবরাহ করে। ওই সুতা দিয়ে টুপি তৈরি করা হলে সুতার দাম বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকায় তারা টুপি কিনেন। মহাস্থানগড় গ্রামের টুপি প্রস্তুতকারক মুঞ্জুয়ারা বেগম জানান, এক গুটি সুতা দিয়ে (বোম) ১২টি পর্যন্ত টুপি তৈরি করা যায়। এক গুটি সুতার দাম ৬০ টাকা। ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ১২টি টুপি বিক্রি করতে পারেন তারা। এতে টুপি প্রস্তুতকারক নারীদের এক গুটি সুতার তৈরি টুপি বিক্রি করে ২৫ থেকে ৩০ টাকা লাভ করা যায়। ১২টি টুপি তৈরি করতে তাদের কমপক্ষে তিনদিন সময় লাগে।
আবুল কালাম আজাদ নামের এক খুচরা ক্রেতা জানান, ১২টি টুপি সে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় কেনে। ১২টি টুপি তৈরি করতে তিন গুটি সুতা লাগে। তিন গুটি সুতার দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা বাদ দিলে দেখা যায় ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এ খুচরা ক্রেতা জানান, তিনি সুতা আগেই দিয়ে আসেন। ৩ দিন অথবা ৬ দিন পর ওই গ্রামে গিয়ে সুতার টাকা বাদ দিয়ে লাভের টাকা দিয়ে টুপি কিনে আনেন। পরে সেগুলো শহরের পাইকারি বিক্রেতাদের নিকট বিক্রি করেন। পরে সেগুলো রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম মার্কেট ও চকবাজার মার্কেটে বিক্রি করেন।
রেজাউল করিম নামের এক খুচরা ক্রেতা জানান, তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে টুপি কিনে পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। একইভাবে আলী রেজা নামের আরেক ক্রেতা জানান, প্রতিটি টুপি ১৮-২০ টাকায় কিনে সেগুলো ২৫-৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।
রোববার ৫ আগস্ট ২০১২
Source: http://www.amardeshonline.com
Related All Links:
নামাজের টুপি তৈরি ব্যবসা
কাপড়ের টুপি তৈরী: প্রস্তুতপ্রণালী, বাজারজাতকরণ, প্রশিক্ষন প্রদানকারী সংস্থা ও কেস স্টাডি
ঈদে টুপি তৈরি করে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আয় করবে বগুড়ার নারীরা
Cap or Hat Buyers: Bangladesh and International
Cap or Hat Buyers: Bangladesh and International
All Subject (Many post in one subject):
Thursday, March 5, 2015
কাপড়ের টুপি তৈরী: প্রস্তুতপ্রণালী, বাজারজাতকরণ, প্রশিক্ষন প্রদানকারী সংস্থা ও কেস স্টাডি
কাপড়ের টুপি তৈরী: প্রস্তুতপ্রণালী, বাজারজাতকরণ, প্রশিক্ষন প্রদানকারী সংস্থা ও কেস স্টাডি
সম্ভাব্য পুঁজি:
২০০০০ টাকা থেকে ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত
ব্যাংকঃ
সোনালী ব্যাংকঃ http://www.sonalibank.com.bd/
জনতা ব্যাংকঃ http://www.janatabank-bd.com/
রূপালী ব্যাংকঃ http://www.rupalibank.org/rblnew/
অগ্রণী ব্যাংকঃ http://www.agranibank.org/
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকঃ www.krishibank.org.bd/
এনজিও
আশাঃ http://asa.org.bd/
গ্রামীণ ব্যাংকঃ http://www.grameen-info.org/
ব্রাকঃ http://www.brac.net/
প্রশিকাঃ http://www.proshika.org/
বাজারজাতকরণ
মুসলমান পুরুষ এর ভোক্তা। ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও দেশের সকল বিপণি দোকানে বিক্রি করা যায়। ইন্দোনেশিয়া ও সুদানে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
সম্ভাব্য লাভ:
একটি টুপি তৈরি করতে খরচ পড়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রয়মূল্য ৩০ থেকে ৮০ টাকা।
সম্ভাব্য লাভ:
একটি টুপি তৈরি করতে খরচ পড়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রয়মূল্য ৩০ থেকে ৮০ টাকা।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
কাপড়, সুই-সুতা, কাচি, সেলাই মেশিন, ডিজাইন পেপার ও নীল।
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে কাপড় টুপির সাইজ অনুযায়ী কেটে নিতে হবে। এরপর টুপির কাপড়ের ওপরের অংশে ডিজাইন পেপার বসিয়ে নীল দিয়ে ছাপ দিতে হবে। ছাপের ওপর হাতে সুই-সুতা দিয়ে কারু কাজ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, নীলের পরিমাণ যেন বেশি না হয়। এবার কাপড় টুপির সাইজ অনুযায়ী চারদিকে সেলাই করলেই হয়ে গেল টুপি।
প্রশিক্ষণ
যোগ্যতা:
সেলাই করা জানতে হবে।
প্রশিক্ষন প্রদানকারী সংস্থা:
ব্রাকঃ http://www.brac.net/
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরঃ www.dyd.gov.bd
বিসিকঃ http://www.bscic.gov.bd/
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরঃ http://www.dwa.gov.bd/
কিছু উল্লেখযোগ্য কেস স্টাডি
সরব হয়ে উঠেছে ভোলার নকশি টুপি পল্লী
ঈদকে সামনে রেখে ভোলার নকশি টুপি পল্লী সরব হয়ে উঠেছে। রাতদিন চলছে টুপি তৈরির কাজ। বসে থাকার বিন্দু মাত্র সময় নেই কারো। টুপির চাহিদা সারা বছর থাকলেও ঈদ মৌসুমে এ চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। টুপির এ বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে এখন দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারিগরেরা। পরিবারের পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি মেয়েরাও এখন টুপি সেলাই করে সংসারে বাড়তি আয় যোগ করছেন। এমন কি অনেক ছাত্রীও এখন লেখাপড়ার ফাঁকে অবসর সময়ে টুপি সেলাই করে বাড়তি আয় করছে।
এখানকার তৈরি টুপি দেশের চাহিদা পূরণ করে রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। তবে, আধুনিক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার কারণে অনেকটা পিছিয়ে তারা। সরকারি আর্থিক ঋণের সুবিধা পেলে এ শিল্পে আরও প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন কারিগররা।
ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, কয়েকবছর আগেও সেখানকার বহু পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছিল। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে হতাশার মধ্যে দিন কাটাতো। কিছুতেই অভাব দূর হয়নি তাদের। তবে নকশি টুপি এবার তাদের ভাগ্য বদল করেছে।
টুপি তৈরির কয়েকজন নারী কারিগর জানান, গ্রামের স্থানীয় এজেন্ট ফিরোজ মিয়ার মাধ্যমে তারা ঝুঁকে পড়েন টুপি তৈরির কাজে। এখন তারা ঘরে বসে টুপি তৈরি করেন। একটি টুপি বিক্রি করে তারা পাচ্ছেন সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা। মাসে যে যত বেশি টুপি করতে পারবে সে তত বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবে এমন প্রতিযোগিতা চলছে ভোলার টুপি পল্লিতে।
কারিগররা জানান, জেলার বাপ্তা, বাংলাবাজার, দৌলতখান ও চরফ্যাশনে এখন নকশি টুপির কারিগর নারীর সংখ্যা দুই হাজার। এ সকল কারিগররা টুপি তৈরি করে স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকাররা আবার বিক্রি করেন ফেনীর টুপি পাইকারদের কাছে। সেখান থেকে সরাসরি চলে যায় কাতার, কুয়েত, ওমানসহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টুপি তৈরির পল্লি ভোলার বাপ্তা গ্রাম এখন সরগরম। কারো অলস সময় কাটানোর সময় নেই। সবাই ব্যস্ত টুপি তৈরিতে। বিদেশি থান কাপড়, দেশীয় সুতা আর সুই দিয়ে নিখুঁত ডিজাইন করে নারীরা এ টুপি তৈরি করছেন।
নকশি টুপির পাইকার জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে কাজ করে আসছি। আর্থিকভাবে আমি এখন অনেক স্বচ্ছল। বিদেশি নকশী টুপির ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ পেশায় আরও অনেকের আগ্রহ বেড়েছে।’
সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পেলে এখানকার টুপি তৈরির কারিগররা আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে ভোলার তথা দেশের উন্নয়নের ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করছেন কারিগররা।
Source: http://info.totthoapa.gov.bd/business
Related All Links:
নামাজের টুপি তৈরি ব্যবসা
কাপড়ের টুপি তৈরী: প্রস্তুতপ্রণালী, বাজারজাতকরণ, প্রশিক্ষন প্রদানকারী সংস্থা ও কেস স্টাডি
All Subject (Many post in one subject):
Subscribe to:
Posts (Atom)
